খাদ্যে ভেজাল বিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৩ সদস্যের কমিটি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে সদস্য করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হবে।

সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন এবং মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: ‘মক্কা চুক্তি’ আলোচনার মধ্যে সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

আলোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনবল সংকট, জেলা পর্যায়ে উন্নতমানের পরীক্ষাগার স্থাপন, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “সমস্যা থাকবেই। তারপরও সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।”

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।