পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০৪ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পেরিয়েছে, কিন্তু থামেনি সেই দিনের আর্তনাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখতে হবে।

এর আগে বেলা ১১টায় বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুতের ওপর জোর, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

পিলখানার শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেসিও, বিভিন্ন পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত বিজিবি সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি পিলখানায় বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণও করেন।

পরিদর্শন শেষে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।