যবিপ্রবির গবেষণা

দেশের সব ধরনের দুধে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৩ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই এই কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

‘Microplastics Contamination of Milk and Milk Products in Bangladesh: Characterization, Dietary Exposure and Risk Assessment’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির একদল গবেষক। গবেষণাটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩–২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে সম্পন্ন হয়েছে। গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম বিস্তৃত গবেষণা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিন

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধের নমুনা, ১২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য। নমুনাগুলো ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

মাইক্রোস্কোপ ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার পর দেখা যায়, সব নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬ দশমিক ৬টি, কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং উৎপাদন কারখানার যন্ত্রপাতি বা পাইপের সংস্পর্শে আসার সময় এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দুধে পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। কাঁচা দুধে ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ কণা ছিল আঁশ আকৃতির। পরীক্ষায় পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস এবং পলিস্টাইরিনের মতো বিভিন্ন ধরনের পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে। কারণ তাদের শরীরের ওজন কম এবং খাদ্যতালিকায় দুধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাব্য হারও বেশি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষকরা দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টারিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করেছেন। তবে গবেষণাটি দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে; এই উপস্থিতি থেকে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।