১৬ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩২ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী ১৬ আগস্ট পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আরও পড়ুন: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ওবায়দুর রহমান

তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।

আরও পড়ুন: সচিবালয়ের সামনে কড়া নিরাপত্তা, বন্ধ সব গেট

তিনি জানান, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি থাকবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করবেন।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তে উন্নীত হলে কিংবা পুনরায় দারিদ্র্যের মধ্যে চলে এলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকাভুক্ত না হন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।