ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শুধু নির্বাচন আয়োজন কিংবা সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন: আইনমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই নিয়মভিত্তিক হতে হবে। তার ভাষায়, গণতন্ত্র কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন সময়ে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ঢাকায় বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড, স্ত্রীসহ হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তান হাইকমিশনার

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের কথা বললেও দলটি বাস্তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে ব্যর্থ ঘোষণা করা বা পদত্যাগের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান সংসদ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সহনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা। নিজের মতের সঙ্গে অমিল থাকলেও অন্যের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে। তবে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক বাস্তবতা অনেক সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসায়িক ও আর্থিক স্বার্থের কারণে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশে সংকোচ তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সাংবাদিক আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নেন। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশে সাহসী হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদমাধ্যমে কর্মপরিবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক সাংবাদিককে কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন ও চাকরির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয় না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও মালিকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ছোট ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপের উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার একটি কঠিন রূপান্তরকালীন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকার, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং সমাজের সব অংশকে আরও ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।