এনবিআর ভেঙে দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৪ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন করে দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় একটি প্রতিষ্ঠান রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, প্রাণহানি বেড়ে ৯১৮

আমির খসরু বলেন, প্রস্তাবিত দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থনীতি ও করব্যবস্থার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই বিভাগ একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো তৈরিতে কাজ করবে। অপরদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে বাস্তবায়নকারী ‘অ্যাকশন টিম’, যার মূল দায়িত্ব হবে কার্যকরভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করা।

কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইন যথাযথভাবে কার্যকর করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব নীতি তৈরির ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাত, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারিতে কমবে চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও সে অনুযায়ী সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এই ঘাটতি পূরণে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর অব্যাহতি যৌক্তিক করা, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের নিয়মিত কর পরিশোধে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় এই লক্ষ্য ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও তা সচেতনভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তার মতে, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অর্থায়ন নিজেদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে আধুনিকায়ন, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় ‘এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন’কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাদের যেন সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে যেতে না হয়, সে ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ ও ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থাসহ ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে কম কর-জিডিপি অনুপাতের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে অত্যন্ত কম।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের অনুপাত ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

রাজস্ব সম্মেলনকে শুধু রাজস্ব সংগ্রহের হিসাব-নিকাশের আয়োজন হিসেবে দেখতে চান না উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ নির্ধারণে সম্মেলনটি ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।