সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও সুযোগ দিতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষ কর্মকর্তাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো জরুরি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, প্রাণহানি বেড়ে ৯১৮
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাইকে নিয়ে দেশটিকে গঠন করতে। আমরা চাই যারা সৎ ও দক্ষ অফিসার আছেন, তাদের আরও বেশি করে কাজ করার সুযোগ করে দিতে।’
আরও পড়ুন: এনবিআর ভেঙে দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী
রাজস্ব সম্মেলনকে সাধারণ কোনো আয়োজন হিসেবে দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআরের কার্যক্রম কতটা সফল হচ্ছে, তার ওপর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই এ সম্মেলন আগামী দিনে কর্মকর্তাদের আরও সফলভাবে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের প্রভাব থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কাউকে সুবিধা দেওয়া, কারও প্রতি বিরূপ আচরণ এবং রাজস্ব আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে একসময় এনবিআর প্রশ্নের মুখে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান সময়ে এনবিআরকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এখন একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল রাজস্ব প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে নিজেদের আস্থার জায়গা হিসেবে দেখতে চান। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআরসহ দেশের পুরো রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শুধু বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঋণের বোঝা বাড়ানোর নীতির বিরোধিতা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে।
এই নীতির ফলে দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, নতুন প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরণ, ব্যবসার নতুন মডেল এবং আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রচলিত কর আইন সম্পর্কে জানলেই একজন আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়। অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
একটি কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থায় করদাতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে কর আদায় করা হলে তা করদাতা ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। কর্মকর্তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা গেলে কর আদায়ও সহজ হবে।
একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করার নীতিকে টেকসই নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বরং কর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এ জন্য আধুনিক, ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন প্রতিষ্ঠানটিকে ভয় না পেয়ে বরং বিশ্বাস করে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজস্ব আহরণের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এতে প্রমাণ হয়েছে, এনবিআরের কর্মকর্তারা সক্ষম এবং আরও ভালো করতে পারেন। দেশপ্রেম ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতেও সফলতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।





