‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৫ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার—বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে এ বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সমঝোতা

রাজনীতিতে প্রবেশের আগে নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা, নীতির পূর্বানুমেয়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। তাঁর সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যা, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: দুপুর থেকে ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও দেশের অর্থনীতিতে আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি, অবকাঠামো, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিধিবিধান সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ মূল্যায়ন করেন মূলত নীতির ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, মূলধন স্থানান্তর এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ বিবেচনা করে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিচিতি বাড়াতে এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে ভূমিকা রেখেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। বাংলাদেশকে এমন একটি বিনিয়োগকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখান থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য আরও বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা, তাঁদের মতামত শোনা এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।