প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে ফের নতুন নিয়োগের ঘোষণা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি, আবার কেউ নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি। এদিকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। ফলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় শিগগিরই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, ৭ লাখ শিক্ষককে ট্যাব দেবে সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর বিজ্ঞপ্তি দুই ধাপে প্রকাশ করা হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি পদের জন্য প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।
আরও পড়ুন: ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নতুন ১০ প্রকল্প অনুমোদন
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। পরে তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কয়েক ধাপে জারি করা ওই আদেশের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়।
এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন প্রার্থী মারা গেছেন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কর্মস্থলে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন কাজে যোগ দেন। আর ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি।
অন্যদিকে কাগজপত্র জমা না দেওয়া প্রার্থী ও মৃত প্রার্থীসহ মোট ৫৫৩ জন নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেননি। ফলে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন—সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেক প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও কাজে যোগ দেননি।
তার ধারণা, এসব প্রার্থীর কেউ হয়তো অন্য কোথাও চাকরি পেয়েছেন এবং সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটে বলেও জানান তিনি।
বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। কারণ বড় একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পরও পদগুলো শূন্য থেকে গেলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়।
এডিজি আবদুর রহিম বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।





