রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৩ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এ সময় পর্যন্ত সব প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: রিয়াদে বিমানবন্দর বন্ধ, ঢাকায় আটকা প্রায় ৩ হাজার যাত্রী

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুন: রিয়াদে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানাল সরকার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, সেটিও কেটে গেছে।

এর পরবর্তী ধাপ হলো ‘বি-২’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি বা চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।

ক্রিটিক্যালিটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে পরমাণুর বিভাজনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া বজায় থাকে। এর মাধ্যমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্ধারিত পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পর বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।