চকবাজারে ১২ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে, বড় ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের
পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আগুন লাগার ১২ ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। ভবনের সরু গলি, পানির স্বল্পতা এবং দাহ্য পণ্যের কারণে আগুন নেভাতে দীর্ঘ সময় ধরে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।
আগুনের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরোনো ঢাকার চকবাজারের আকাশ। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত। সেখানে ছিল প্রসাধনী, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের গুদাম। আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের অন্যান্য অংশে, এমনকি পাশের একটি ভবনেও।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের সংকট নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী
বিকেল পাঁচটা চার মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাঁচটা ২২ মিনিটে। শুরুতে কয়েকটি ইউনিট কাজ করলেও আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে দাবি করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও দাহ্য পদার্থের কারণে মঙ্গলবার সকালেও অনবরত পানি দিতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসকে।
তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো স্পষ্ট নয়। ভবনের ষষ্ঠ তলার গুদাম ও দোকানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ভবন নির্মাণবিধির দুর্বল প্রয়োগ: রাষ্ট্রপতি
পুড়ে যাওয়া পণ্যের প্রকৃত মূল্য, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সংখ্যা এবং ভবনের অন্যান্য অংশের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই শেষে মোট ক্ষতির পরিমাণ হিসেব হবে। তবে ৬ ও ৭ তলার গুদামে অধিকাংশই পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি দোকানেই ৫০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকার পণ্য ছিলো বলে জানিয়েছে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।
আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুরোনো ঢাকার সরু রাস্তা, যানজট এবং পানির সংকট অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের। ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্য থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করবে ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের লোকসানের সঠিক হিসাব এবং আগুনের কারণ তদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে বলে দাবি ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার।





