ধানমন্ডিতে ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় খালিদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান নামে এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতের আদেশে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ জানান, সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেন খালিদ। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ভায়াগ্রা ও নিষিদ্ধ প্রসাধনীসহ সোয়া কোটি টাকার পণ্য জব্দ

ঘটনার শুরু সোমবার দুপুরে। ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী অভিযোগ করেন, শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) তাঁকে শ্লীলতাহানি করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিক আটক করতে অনীহা দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তরুণী তাঁর মামা খালিদ হাসানকে ফোন করে সেখানে আসতে বলেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে খালিদ নিজেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আচরণ করেন। তিনি শহীদ আবদুল্লাহকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং কান ধরে ওঠবস করান। পরে পুলিশ শহীদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাঁকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দুই পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখা যায়। তবে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার এএসআই আবদুল হাইকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমবিবিএস পড়ার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর সংসারও টেকেনি।

মামা কারাদণ্ড পাওয়ার পর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ওই তরুণী। তাঁর দাবি, তাঁকে শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা করতে গিয়েই তাঁর মামাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মামাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘিরে একদিকে শ্লীলতানির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।