বাজারে মাছ-সবজির দাম চড়া, বেড়েছে ডালও

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০২ অপরাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। বাজারে আসতে শুরু করেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটোসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এসব সবজির দাম এখনো কিছুটা চড়া। নতুন সবজির আগমনে বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে, পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশায় খুশি কৃষকরাও।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজির দোকানে শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। আগাম চাষ করা সবজিগুলো বাজারে আসায় ক্রেতারা মৌসুমি সবজি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের মতো সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকেরা আগাম আবাদে লাভের আশা করছেন। তবে উৎপাদন খরচ, সার ও কীটনাশকের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তাও রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে নতুন সবজি এলেও দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনতে পারছেন না। তাঁদের আশা, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়বে এবং দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্যের ৫ জনই সরকারি চাকরিজীবী, কারা তারা?

বিক্রেতারা বলছেন, এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে আসেনি। ফলে কিছু সবজির দাম বেশি রয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে শীতকালীন সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে বাজারে সবজির বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসতে পারে। আগাম শীতকালীন সবজির এই উপস্থিতি কৃষকদের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি শীতের মৌসুমি খাবারের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের মধ্যেও বাড়াচ্ছে আগ্রহ। সব মিলিয়ে, বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির আগমন শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। এখন ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর মৌসুমি সবজি কেনা আরও সহজ হবে।

এদিকে, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই পরিচয় বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মাছ, চাল, ডাল ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চড়া দামে সেই চিরচেনা খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য। রাজধানীর বাজারে মাছ ও আগাম শীতকালীন সবজির দাম বেশ চড়া। পাশাপাশি কয়েক ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। তবে ডিম ও মুরগির দাম রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, কৈ-পাঙাশ ও ছোট মাছ—সব ধরনের মাছ কিনতেই ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। রুই-কাতলা ওজনভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। তেলাপিয়া মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। চাষের কৈ ও পাঙ্গাশের দামও কেজিতে ২০০ টাকার নিচে নয়। আর শিংসহ ছোট মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। অন্যদিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চালের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। ২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। স্বর্ণা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম। আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও দাম এখনও চড়া। বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ টাকায়। শিমের কেজি ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। কাঁকরোলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। পটল, ঢেঁড়স ও মুলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির পাশাপাশি বেড়েছে কয়েক ধরনের ডালের দামও। ছোলা, বুট, মুগ ও মটর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিমের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। মুরগির দামও রয়েছে স্থিতিশীল।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি

এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও দামের খুব একটা পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৭৫ টাকা। মাছ, চাল ও সবজির চড়া দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষকে।