রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পাল (৪৭) ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি
আজ চার দিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম দুই আসামির প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পাল ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা নাম্বার ওয়ান’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এজাহার অনুযায়ী, ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসামিরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আবদুল আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা একটি পেজ তৈরি করে তার মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় উসকানি দিতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলী আকবর। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় মামলাটি করা হয়।





