লালমনিরহাটে সিমেন্টবাহী ট্রাকের চাপায় দুই নারীর মৃত্যু
লালমনিরহাটে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাকের চাপায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে জেলার সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালাপাড়া এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বের হয়ে প্রাণ হারান ওই দুই নারী। তাঁদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন বালাপাড়া এলাকার আজিজারের স্ত্রী জহিলা বেগম (৫৫) এবং আব্দুল করিমের স্ত্রী ফজিলা বেগম (৫০)।
আরও পড়ুন: মোহনগঞ্জে পুকুরে ডুবে একই বাড়ির দুই শিশুর মৃত্যু
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহিলা বেগম ও ফজিলা বেগম প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরেও হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের বালাপাড়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি সিমেন্টবাহী ট্রাক তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী
সকালের এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
চালক ও হেলপারকে আটকের খবর
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় এবং এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তদন্ত করছে পুলিশ
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রাকটির গতি এবং চালকের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এ দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে ভোরে হাঁটতে বের হওয়া মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।





