বিএনপির দলীয় ক্যাডাররাই সারাদেশে মবতন্ত্র কায়েম করেছে’: সাদিক কায়েম

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানোর ঘটনায় বিএনপির সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ‘মব কালচার’ শেষ করার কথা বলেছিলেন। অথচ বাস্তবতা হলো, বিএনপির দলীয় ক্যাডাররাই এখন সারাদেশে ‘মবতন্ত্র’ কায়েম করেছে।

সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর এবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে মব করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে ভিসির কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার ঘটনায় দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মব করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে ৪০-৫০ জন সরকারি দলের ক্যাডার মিলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগ করানো নজিরবিহীন ঘটনা।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজ ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অসন্তোষ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি দলীয় ক্যাডারদের অনুমতি নিয়ে নিতে হবে?’

আরও পড়ুন: ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তি

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতারও সমালোচনা করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পগুলো সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ভোগদখলে যাওয়াকেই নিয়ম হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে? রাজনৈতিক চাপ, ঘেরাও ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যদি একজন ভিসির পদত্যাগ আদায় করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা কতটুকু থাকে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মববাজি’র অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না। গত সপ্তাহে রাড্ডা ক্লিনিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ইন্ধনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি দখল, লুটপাট, হামলা ও মব সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত।’ এসব ঘটনায় পুলিশ ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিবৃতির শেষাংশে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সতেরো বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে।’