শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৬ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক এবং আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনায় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনার জন্য এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিনের মাথায় আবারও বোর্ডের সভা হবে। অতীতে কোনো দাবি নিষ্পত্তিতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগলেও বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিরা মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান। এরপর রোববার দুপুর ১২টার আগেই বোর্ড গঠন করা হয় এবং একই দিন সন্ধ্যায় গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে সরকার থেমে থাকেনি। তিন দিনের মাথায় বোর্ডের প্রথম সভা হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও সভা হবে।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

শ্রমিকদের উদ্দেশে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি আহ্বান করব, আপনারা কলকারখানায় কালকে (বৃহস্পতিবার) ফিরে যান। আপনাদের সমস্ত দাবি সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বোর্ড বসেছে, বোর্ডে আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে, ইনশা আল্লাহ।”

দাবি জানানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে অথবা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। মন্ত্রণালয় সেসব দাবির বিষয়ে সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো ধরনের আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তাঘাট অবরোধ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শিল্প বাঁচলে আয় বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। তাই শিল্পের স্বার্থে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদের সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

বৈঠকে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ওই পরিবারের জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করবে।

মন্ত্রী বলেন, নিহত শ্রমিকের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে। দ্রুততম সময়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত সারসংক্ষেপ শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা কাজ শুরু করেছি। এর আগে কোনো সরকার শ্রমিকদের জন্য এ ধরনের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবে কাজ করতে হবে।”

শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, একটি পক্ষ দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়। এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত এবং যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।