খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নেতাকর্মীরা, রাতভর হাসপাতালের সামনে

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০০ পূর্বাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা শুক্রবার রাত থেকে হঠাৎ গুরুতর আকার ধারণ করায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা রাতভর তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে দোয়ার বন্যা, একইসঙ্গে নানা গুজব—যা আরও উৎকণ্ঠা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে।

খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্টে গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে নিউমোনিয়া বেড়ে গেলে ২৭ নভেম্বর তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। তার সঙ্গে পুরোনো লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা থাকায় চিকিৎসার প্রতিটি ধাপই কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন: তড়িঘড়ি করে দুটি আইন পাশ করাতে চায় সরকার: ফখরুলের প্রতিবাদ

শুক্রবার গভীর রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, তার চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে—সরকার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি সুস্থতার কামনা করেন।

এদিকে ভার্চুয়াল স্ট্যাটাসে তারেক রহমান খালেদা জিয়ার অবস্থাকে “সংকটজনক” বলে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার সদয় মনোযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই রাতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয় এবং দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনা চান।

আরও পড়ুন: যারা ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাদের কাছে দেশ নিরাপদ নয় : সালাম আজাদ

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া সিসিইউতে গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। লন্ডন থেকে চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও অনলাইনে পরামর্শ দিচ্ছেন।

একইসঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা করেন। রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরীও। তিনি গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নিজে এসে খোঁজ নেন এবং জানান, “ম্যাডামের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছেন—গুজবের চেয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন।”

রাত গভীরে চিকিৎসক দলের পর্যালোচনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডাম আমাদের চিনতে পেরেছেন এবং সালামের উত্তরও দিয়েছেন।” তবে চিকিৎসা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য হাসপাতালের ভেতরে ভিড় না করার অনুরোধ করেছে বিএনপি মিডিয়া সেল।

এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সারারাত গণমাধ্যমে চোখ রাখেন তার সর্বশেষ অবস্থা জানার আশায়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়সজনিত কারণে সুস্থ হতে সময় লাগছে এবং প্রতিটি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।