ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির চেয়েও জামায়াত নেতার কোরবানি বড়!

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতাকে তুলনা করে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও কাউনিয়া–পীরগাছা আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী এটিএম আজম খান। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই বক্তব্য দেন এটিএম আজম খান। সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে ভারত: রিজভী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে এটিএম আজম খানকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনসংক্রান্ত এক ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে তিনি ‘কোরবানি’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং তা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘২৮ তারিখ সকালে কেন্দ্র থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয়—আপনাকে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। তখন আমি জিজ্ঞেস করি, এই কোরবানি কি ইব্রাহিম (আ.)-এর ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির মতো? উত্তরে বলা হয়, এর চেয়েও বড়।’

আরও পড়ুন: গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ানো হলে সরকার টিকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম

তিনি আরও বলেন, ওই ফোনালাপে তাকে বলা হয়েছে, পীরগাছা–কাউনিয়া এলাকার লাখো মানুষের ত্যাগকেই এই ‘কোরবানি’র অর্থ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখকে শক্তিতে রূপ দিতে হবে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, আর এই চ্যালেঞ্জে আমাদের টিকে থাকতে হবে।’

বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জোটগত সমঝোতার কারণে ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন দেন।