ইসলামী আন্দোলনের সব অভিযোগের জবাব দিলো জামায়াত
জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলনের পর উত্থাপিত অভিযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আসন বণ্টন ও রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের প্রতি অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি; বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সময় সংবাদকে এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: যুবদলের কেন্দ্রীয় সতর্কবার্তা
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটি মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “কিছু আসন এক দফায় ঘোষণা করা হলেও কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল—কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।”
আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতেই ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।”
তিনি জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল—বেগম খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত রাখা।
জামায়াতের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন চালুর অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির স্পষ্টভাবে বলেছেন—বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।”
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না। “সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে আটটি আন্দোলনরত দলের একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। এখানে কোনো আহ্বায়ক বা স্থায়ী কাঠামো ছিল না। সভাপতিত্ব ও বক্তব্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হয়েছে—যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত।”
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, সে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
জামায়াতের এই নেতা জানান, ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে। “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের এখনও সময় আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে ইসলামী দলগুলো এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকে।”
এছাড়া তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। “আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, “গত ১৬ বছরের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রেখে ইনক্লুসিভ রাজনীতির সংস্কৃতি গড়াই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।”





