বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে তাইফুল ইসলাম টিপুর আবেগঘন বিদায়
বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ-তিতীক্ষা, সংগ্রাম, কষ্ট ও আনন্দ-বেদনার স্মৃতিচারণা করেছেন বিদ্রোহী হিসেবে নাটোর-১ আসনে নির্বাচন করে দল থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপির সাবেক এই কেন্দ্রীয় নেতা। এ সময় সমর্থক হিসেবে দলের পাশে থাকার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটি বরাবর চারটি চিঠি অফিস কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদ উন্মুক্ত করলেন নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি টিপুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল বিজয়ী হয়ে সরকারে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাইফুল ইসলাম টিপু সাংবাদিকদের বলেন, স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় সাংগঠনিক নিয়মে গত ২১ জানুয়ারি থেকে আমি আর দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে নেই। দীর্ঘদিন অফিসের দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু নিয়ম-কানুন ছিল এবং তার কিছু মাসিক চাঁদা ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া ছিল, সেগুলো আজ পরিশোধ করলাম। একই সঙ্গে অফিসে তার যত দায়-দায়িত্ব ছিল, সেগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করলাম। ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন না। সে কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরে কিছুটা দেরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন
তিনি বলেন, জীবনের ৪৩ বছর বিএনপিতে কাজ করেছি এবং দীর্ঘদিন দাপ্তরিক দায়িত্বও পালন করেছি। দায়িত্ব পালনকালে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্নেহ-ভালোবাসা-আদর পেয়েছি। তারেক রহমান আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
একই সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে পৃথক চিঠি দেওয়ার কথা বলেন। বহিষ্কৃত এ নেতা বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে চিঠিতে বলেছি, সমর্থক হিসেবে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দলের পাশে থাকব।
টিপু দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ সব নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোথাও কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।





