মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল এনসিপির মনিরা শারমিন, শুনানি সোমবার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিন। রোববার ( ২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে  জমা দেওয়া এ আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সকালে, যা প্রার্থিতা নিয়ে আইনি ও নীতিগত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে এই আপিল করা হয়েছে এবং সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেছে ইসি।

আরও পড়ুন: বিএনপির মাধবী মার্মার মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জে ইসিতে আপিল

মনিরা শারমিন বলেন, তার মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে যে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতা ও আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিধানকে “ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট” দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিত্বের মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, একজন এন্ট্রি-লেভেলের ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে তার চাকরির মেয়াদ ছিল সীমিত এবং তিনি কোনো প্রশাসনিক বা প্রভাব বিস্তারের অবস্থানে ছিলেন না।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়াকে কারণ দেখিয়ে গত ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছেড়ে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত না হলে প্রার্থিতা গ্রহণযোগ্য হয় না—এমন বিধানই তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, মহিউদ্দিন রনি ও নুরুজ্জামান কাফি

এর আগে, একই জোটের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আপিল শুনানির রায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ও আইনি ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রাসঙ্গিক আইন, বিধি ও দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।