হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে 'গণহত্যার' ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিলের পর শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। আর এই মামলার আসামিদের মধ্যে যারা অন্য মামলায় গ্রেফতার আছেন তাদের হাজির করার পাশাপাশি অপর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়া জারি করা হয়েছে। সেই সাথে আগামী ১৬ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন: 'ইসিকে বিএনপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণতের অপচেষ্টা', সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার ৪১ জন আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আই-জিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক  (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপিশেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

শুনানিতে কী হয়েছে: সোমবার বেলা পৌনে ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণহত্যার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, ৫ মে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি জরুরি সভা করা হয়। তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের সহযোগিতায় অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহীদুল হক, বিজিবির তৎকালীন ডিজি জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং র‍্যাবের কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে মিলিত হন। সুপরিকল্পিতভাবে ইসলামিক সংগঠন বা গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন বা নির্মূল করে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বরে হামলা চালায়- বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। শুনানিতে তিনি জানান, পরবর্তীতে গণহত্যার চিহ্ন মোচনের চেষ্টাও করা হয়। হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের দমাতে ওইদিন রাতে ও পরদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ ব্ল‍্যাকআউট করে অভিযান পরিচালনা করে বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন তিনি। বিভিন্ন বাহিনী তাদের পরিচালিত অভিযানকে একেক নামে অভিহিত করে।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ে সম্মিলিত চেতনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ : রিজভী

এর মধ্যে পুলিশ বাহিনী এটিকে 'অপারেশন সিকিউরড শাপলা', র্যাব 'অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট' এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড শাপলা চত্বরের অভিযানকে 'অপারেশন ক্যাপচারড শাপলা' নামে অভিহিত করে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, শাপলা চত্বরের ওই ঘটনার পর থেকে তৎকালীন সরকার এই মামলার ৬১ জনের হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত পরিচালনা করেনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, এই যে জেনোসাইড বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম বর্বরোচিত হত্যা ও আক্রমণ আর হয়েছে কি না, আমার জানা নাই। তিনি বলেন, একটি ইসলামিক গোষ্ঠী অথবা একটি ইসলামিক গ্রুপকে ডেস্ট্রয় বা নির্মূল করে দেয়ার জন্য তৎকালীন সরকার কিছু ব্লগার একটিভিস্ট বা কিছু লেফটিস্ট যাদেরকে নাস্তিক বলে সম্বোধন করতে পারি, এই জাতীয় কিছু মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর এই আক্রমণ করে। সে কারণে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তের বাইরেও মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে ৩২ জনকে হত্যা এবং পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জে আরও ২০ জনকে হত্যার ঘটনাটি জেনোসাইড বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, এই ঘটনার পরে শেখ হাসিনা নিজ মুখে বলেছিলেন কোনো হতাহতের ঘটনা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তারা নিজেদের গায়ে রং মেখে ঘটনা সাজিয়েছে। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সেসময় দুইটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করতে লিখিত আদেশ দিয়েছিলেন। ইসলামিক এবং দিগন্ত টিভি ঘটনাটি সম্প্রচার করায় এবং তাদের কাছে অনেক তথ্য থাকায় তাদের লাইসেন্স বাতিলে হাসানুল হক ইনু লিখিত আদেশ দিয়েছিলেন, বলেন আমিনুল ইসলাম।

মাইনর বা শিশু আছে কিনা, জানতে চান বিচারক: অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী চিফ প্রসিকিউটরের কাছে, এই ঘটনায় শাপলা চত্বরে নিহতদের মধ্যে কোনো মাইনর অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে কিনা, সেটি জানতে চান। সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাপলা চত্বরে শিশুও নিহত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। মা-বাবা নেই এতিম এমন বাচ্চাদেরকে হেফাজতের সমাবেশে নিয়ে আসা হয়েছিল? প্রশ্ন করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা ইনডিপেনডেন্টলি ইনভেস্টিগেশন করে যেটা পেয়েছি, সেটাই দিয়েছি। হাইপোথেটিক্যালি আমরা বলতে পারি না। আমাদের ইনভেস্টিগেশনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমরা তদন্তে তিনজনকে পেয়েছি। যাদের বয়স ১৫ বা ১৪ বছর বয়সী বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: এই মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রুপা। যেসব সাংবাদিককে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান চিফ প্রসিকিউটরকে এমন প্রশ্ন করেন। এ প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাংবাদিক ফারজানা রূপা সমীকরণ নামে একটি অনুষ্ঠান করেছেন যাতে শাপলা চত্বরের 'ফুটেজ নিয়েছে তারা, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা লুকিয়ে সত্যকে বিকৃত করে' প্রচার করা হয়েছে। তবে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সে প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি। মামলাটির প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার বাকি কয়েকজন সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই পলাতক রয়েছে। মহিউদ্দিন খান আলমগীর, র ‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বেনজীর আহমেদ, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৩০ জনের বেশি অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এই ঘটনায় তৎকালীন ব্লগার ডা. ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি শাহবাগে দাঁড়িয়ে এই হেফাজত ইসলাম সম্পর্কে নানান ধরনের অশ্রাব্য বক্তব্য ও কুৎসা রচনা করতেন। তার ইন্ধনে ও প্ররোচনায় পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ নির্বিচারে লেথাল উইপেন ইউজ করে এই হত্যা করা হয় বলেন তিনি। সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হকের কথা উল্লেখ করে জানান, শহীদুল হকের নিজের বইতে

হেফাজতকে কিভাবে দমন করা হয়েছে সেটি বলা হয়েছে। বিজিবির তৎকালীন ডিজি ছিলেন জেনারেল আজিজ আহমেদের (তিনি পরে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন) নির্দেশে বিজিবির সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটা খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। প্রসিকিউশন জানায়, ওই সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।