'আসি আসি বলে আর আসবে না' শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ
বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে আসি আসি বলে কখনও আসবে না।’ তিনি দাবি করেন, ফিরে আসার বার্তা দিয়ে নেতাকর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: 'সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি হচ্ছে'—আখতার হোসেন
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে আসি আসি বলে কখনও আসবে না। ওখান থেকে আসার কথা বলে নেতাকর্মীদের বের করবে, আর তারা গণপিটুনির শিকার হবে।’
তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, সংসদে ক্ষমা চাওয়ার পরও শিক্ষকদের বদলি করে প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় নিরীহ শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা
হাসনাত আরও বলেন, ‘আমরা আপনার অতীত ও আপনার পরিবারের দুর্নীতির বিষয়ে জানি। নিজের সন্তানকে বিদেশে পড়াশোনা করিয়ে অন্যদের নেতাদের পেছনে রাজনীতি না করার পরামর্শ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তার সম্পদের পরিমাণ আগের তুলনায় ২৫ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, বিএনপি নিরপেক্ষতার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের মতো দখলভিত্তিক রাজনীতি করতে চায়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে দেশের মানুষ সংস্কার চেয়েছিল। তবে নির্বাচন শেষে বিএনপি ও তাদের শরিকরা সেই সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন তা দেয়নি। এখন তারা বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে একই ধরনের অবস্থান নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের সেই মতামত উপেক্ষা করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দখলদারিত্বের রাজনীতি জনগণ মেনে নেবে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চুয়াডাঙ্গায় পদযাত্রা শেষে এনসিপির গাড়িবহর মেহেরপুরের গাংনীতে পৌঁছায়। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সমাবেশ শেষ করে নেতারা কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।





