নৈরাজ্য ঠেকাতে রাজপথে বিএনপি

Sadek Ali
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৪১ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

* সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রশ্রয়ের প্রবৃত্তি সারা দেশে

* ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শেকৃবিতে সিপিবির ও অচল-ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল

আরও পড়ুন: কওমিপন্থী ঐক্যের রূপরেখা চায় হেফাজত

* নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে বিএনপি হাত গুটিয়ে থাকবে না: রিজভী

* বিজয়নগর বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্ক মোড় এলাকায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ আহত ২০

আরও পড়ুন: ২৬ জন সন্দেহভাজন জাসদ কার্যালয় থেকে আটক, সবাইকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

দেশে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেয়াস অপতৎপরতা মোকাবিলায় রাজপথে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের পদত্যাগের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উসকানিমূলক হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধান রক্ষায় বিএনপি এখন অনড়। সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের অবনতি এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে কতিপয় রাজনৈতিক অপশক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা চালাচ্ছে, নাশকতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা চক্রান্তী চক্র প্ররোচিত করে চলেছে। দলীয় সূত্র ও গোলটেবিল সূত্রে জানা যায়, রাজপথের রাজনীতি এড়াতে সিপিসি, এলপি ও ইউপিপিডি বিভিন্ন আপোষে, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও গণসংযোগের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসনের স্থান ও প্রাঙ্গণসহ নানা স্থানে আরেকটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতেই দলটি চক্রান্ত করছে। দেশব্যাপী সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে রাজনৈতিক দল বাদে অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র উদ্যোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শোভাযাত্রা আয়োজিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে, গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, 'দুষ্কৃতকারী অপশক্তির পাঁয়তারা চলছে। দেশবাসী এ অপসংস্কৃতিকে প্রতিহত করবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত কাউন্সিল বা সম্মেলন করা হবে। মহিলা উপস্থিতি মূলক সমাবেশে কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তি দেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বিএনপি সব ধরনের নৈরাজ্যের অপতৎপরতা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে প্রতিহত করবে। জনকল্যাণের রাজনীতি বিজয়ী হবে।'

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গত কিছুদিন রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা, পার্টির ও কমিটির কাঠামোগত পরিবর্তন আলোচনা রয়েছে বা নয়। যেনো প্ররোচনামূলকভাবে ছাত্রদল, যুবদল নিধন, নাশকতা, মারামারি, সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের নিষ্পত্তির সৃষ্টির এই মাসে পিসির শিক্ষণ মাধ্যমে বা দিন। পিসির দুটি বাতিটি সময় পাশের গন্ধ ছড়ায় না। 'গণতন্ত্র উপস্থিতি সময়য়ে অবস্থা সংস্কার করতে হবে। এবং আন্দোলনের পর্তুদার বর্তমান সংস্কারের জন্য।' মত আদানপ্রদান ও মারমারি শিক্ষণ কর্মসূচি যাচ্ছে, 'চালকের ওই অপসংস্কৃতি বর্জন করতে হবে। বিএনপি কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নিবে না।' বিএনপির আইনিতে রাজপথে ছিল। রাজপথে রাজপথে প্রসারে, প্রশাসনের পর্যায়কার প্রতিবাদ প্রক্রিয়া, নিশ্চয়ই শিক্ষা এক দেশের মানুষের স্বস্তিদায়ক সম্পর্ক ভুল পর্যন্ত সাজানো।'

সেটি এড়াতে বিএনপির রাজপথের রাজনীতিকে জোরদার করার লক্ষণে স্থগিত রয়েছে। 'দেশব্যাপী গণ-আন্দোলন মাধ্যমে ইতি প্রতিরোধে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রোমক এটা করে। আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং অশুভ রাজনৈতিক বস্তু ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। চব্বিশের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তা নস্যাৎ করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না।

রাজপথে রাজনৈতিক প্রতিরোধ বিএনপি ঘোষণা করেছে, রাজনৈতিক মাঠ কোনো দলের একক নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয় নয়। তাই প্রতিপক্ষের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি, গণসংযোগ, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান দৃঢ় রাখছে দলটি।

দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি চালু রাখা। দ্বিতীয়ত, নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা।

অচল-ঘটনাও কড়া বার্তা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা বা খন্ডিত মিছিল বা কর্মসূচির আক্রমণকে গুরুত্ব দিয়ে অচল-ঘটনাগুলোকে মাঠে প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়ে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে সরে গেলে রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে প্রতিপক্ষ। এ কারণে তুলনামূলক কমবয়সী ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির জয়, দীর্ঘ আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও সাংগঠনিকভাবে শিথিলতা দেওয়ার সুযোগ নেই। রাজপথে দৃশ্যমান উপস্থিতি বজায় রাখা একদিকে যেমন সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখবে, অন্যদিকে যেকোনো রাজনৈতিক অপশক্তিকে মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখাবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচি, নিজেদের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা। সেই লক্ষ্যেই রাজপথে সক্রিয় থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার কৌশল নিয়েছে দলটি।

নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে থাকবে না: রিজভী

গত সোমবার দুপুর রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে বিএনপির যুগপদ্লের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। কম দামে জিনিস ও চাল সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধী দলের লংমার্চ সরকারের বিরুদ্ধে ফেলে জমা ব্যবহার করা হয়েছে, তা মোটেও কাম্য নয়। এক দফা কর্মসূচি নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। রাজনীতির দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এসব পরিস্থিতির সৃষ্টি কাণ্ডেও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক উন্নয়ন কমিটি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো করে স্বাস প্রহিমত করবে না বলেও জানান তিনি।

নৈরাজ্য ও স্বাস সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকেলো করা হচ্ছে গত শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড় সংলগ্ন চত্বরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়ারের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

এদিকে, পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীর তেজগাঁওতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তেজগাঁও থানা বিএনপি। গতকাল রবিবার তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কারওয়ানবাজার হয়ে তেজগাঁওর একটি মোড়ে প্রদক্ষিণ করে। মিছিল-পূর্ব প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইয়ুল আলম নীরব। তেজগাঁও থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইয়ুল আলম নীরব বলেন, ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে দাবি আদায় করেছি। আপনারা দেশবিরেধী ষড়যন্ত্র করেন, গুপ্ত হামলা করান, তোমাবাজি চালাচ্ছেন—আর বিএনপির শেষ কর্মী বেঁচে থাকতে 'তা হতে দেওয়া হবে না।' সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল।