এমপি নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার এ আবেদন করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুন নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। এরপর তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন: গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর রিমান্ড মঞ্জুর

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়মকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, মরিয়মের মামা ওবায়দুল রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ওই বিয়ে হয়েছিল। মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেলে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েকে ঝুলতে দেখেন। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: এমপি নজরুলেকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিছানা থেকে মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।

এদিকে গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এরপর ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এর আগে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন গাজী নজরুল। এবার মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় করা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।