কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে ইজারা দেওয়া যাবে না: জামায়াত আমির

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কোনো পক্ষের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ পার পাবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। কী উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন এবং কী সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো গোপনীয়তা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও জনগণ পরিষ্কার ব্যাখ্যা চায়।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামেনি। জনগণের দাবি ও তাদের ভোগান্তির বিষয়গুলো তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি। আগের দুটি লংমার্চ জনগণের সমর্থনে সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তৃতীয় লংমার্চও সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে নতুন বিতর্ক, ভিডিও ফাঁস নিয়ে কী বলেছিলেন তিনি?

জামায়াত আমির বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। তাঁর দাবি, এই একটি দাবি বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফার প্রয়োজন হতো না। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, দুর্নীতি ও মাদক কারবারের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দলটি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং সংসদে গণরায়কে উপহাস করেছে। তাঁর ভাষায়, বিএনপি জাতিকে হতাশ করেছে এবং ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। তিনি দলটিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৯ তারিখ সংসদ অধিবেশন বসার আগেই নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। তা করা হলে বিরোধী দলের পরবর্তী কর্মসূচির প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের দাবি এবং ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটকে অপমানিত হতে দেওয়া হবে না। এ দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, কারও প্ররোচনায় কান না দিয়ে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সামনে আরেকটি বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং এ জন্য মুক্তিকামী মানুষকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।