৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

ভাষা আন্দোলনে স্পষ্ট অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা মানা হবে না- ঘোষণা ছাত্রসমাজের

Any Akter
আহমেদ শাহেদ
প্রকাশিত: ৭:৩০ পূর্বাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩২ পূর্বাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভাষা আন্দোলনের উত্তাল ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনে আরও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

আগের দিনগুলোর প্রস্তুতি ও সংগঠনের পর এই দিন ছাত্রসমাজ প্রকাশ্য সভা ও আলোচনার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়- বাংলা ভাষার দাবিতে কোনো ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানা হবে না।

আরও পড়ুন: হলভিত্তিক সভা ও লিফলেট বিতরণে জোর, ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন একাধিক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন হলে ও ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এসব সভায় ছাত্রনেতারা স্পষ্ট ভাষায় আন্দোলনের লক্ষ্য ও কৌশল তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কোনো আপসের বিষয় নয় এবং এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে যেকোনো পরিস্থিতিতে।

সভাগুলোতে সম্ভাব্য সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে সভায় বলা হয়, ভবিষ্যতে সরকার যদি সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করে, তবুও আন্দোলন থেকে সরে আসা হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে হলেও রাজপথে উপস্থিত থাকার প্রস্তুতির কথা জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন: আন্দোলনের তীব্রতা টের পেয়ে নজরদারি বাড়ায় সরকার

৭ ফেব্রুয়ারির এসব সভায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আগের দিনগুলোর লিফলেট বিতরণ ও হলভিত্তিক আলোচনার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন।

এই দিন ভাষা আন্দোলন আরও সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী রূপ পেতে শুরু করে। ছাত্রদের মধ্যে ভয় বা দ্বিধার বদলে দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যায়। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রনেতারা জানান, আন্দোলন এখন আর শুধু প্রতিক্রিয়াশীল নয়, এটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়ে। তবে এসব উপস্থিতি আন্দোলনকারীদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ৭ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই দিনই ছাত্রসমাজ পরিষ্কারভাবে ঘোষণা দেয়- নিষেধাজ্ঞা, ভয়ভীতি বা চাপ কোনো কিছুই তাদের বাংলা ভাষার দাবি থেকে সরাতে পারবে না। এই দৃঢ় অবস্থানই পরবর্তী দিনে আন্দোলনকে আরও সংঘাতমুখী ও ঐতিহাসিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নেয়।