ভালোবাসার ইতিহাসে ১৪ ফেব্রুয়ারি: সেন্ট ভ্যালেন্টাইন থেকে বিশ্বজুড়ে উদযাপন
১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রতি বছর এদিনটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। ফুলের রঙ, কার্ডের ভাষা আর ছোট ছোট উপহারের ভেতর দিয়ে মানুষ তার অনুভূতি প্রকাশ করে। তবে দিনটি শুধু আধুনিক সময়ের কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, কিংবদন্তি আর সংস্কৃতির বিবর্তন।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, তৃতীয় শতকের রোমান সাম্রাজ্যে এক খ্রিস্টান পুরোহিতের নাম উঠে আসে। তিনি হলেন Saint Valentine। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, সে সময়ের সম্রাট তরুণদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, অবিবাহিত পুরুষরা যুদ্ধক্ষেত্রে বেশি দক্ষ হয়। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন প্রেমিক-প্রেমিকাদের গোপনে বিয়ে পড়াতেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে তিনি ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ওঠেন, আর তার স্মরণেই দিনটি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
আরও পড়ুন: রিফাইন্ড থেকে নতুন করে রিকনসিলিয়েশন
ইতিহাসবিদরা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রাচীন রোমে লুপারকেলিয়া নামে একটি উৎসব পালিত হতো, যা বসন্ত ও উর্বরতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই উৎসবের কিছু উপাদান খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে যায়। মধ্যযুগে ইউরোপে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে প্রেমের দিন হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রাখেন ইংরেজ কবি Geoffrey Chaucer। তার কবিতায় এই দিনটিকে প্রেমের সঙ্গে যুক্ত করার পর থেকেই ইউরোপে প্রেমপত্র বিনিময়ের রীতি গড়ে ওঠে।
১৮ ও ১৯শ শতকে হাতে লেখা ভালোবাসার চিঠি ও কার্ড বিনিময় ধীরে ধীরে সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়। পরে শিল্প বিপ্লবের সময় ছাপানো কার্ডের প্রচলন শুরু হলে দিনটি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক সময়ে এসে ভালোবাসা দিবস বিশ্বায়নের অংশ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা- সব জায়গায় মানুষ এই দিনটি নিজেদের মতো করে উদযাপন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এখন ভালোবাসার বার্তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় সারা বিশ্বে।
আরও পড়ুন: আবারো কঠোর অবস্থানে বিএনপি, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা
বাংলাদেশেও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এখন বেশ জনপ্রিয়। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে এদিন ফুলের দোকান, উপহারের শোরুম ও রেস্তোরাঁয় বাড়তি ভিড় দেখা যায়। তরুণ-তরুণীরা লাল বা বসন্তের রঙে সেজে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান। অনেক সময় পহেলা ফাল্গুন কাছাকাছি থাকায় বসন্তের আবহ আর ভালোবাসার আবেগ মিলেমিশে এক আলাদা মাত্রা তৈরি করে।
তবে ভালোবাসা দিবস কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা মানবতার প্রতি ভালোবাসাও এই দিনের অন্তর্ভুক্ত। ইতিহাসের নানা স্তর পেরিয়ে আজকের এই দিনে এসে মূল বার্তাটি একই রয়েছে- ভালোবাসা মানে সম্মান, সহমর্মিতা আর আন্তরিকতার চর্চা। সময় বদলেছে, আয়োজন বদলেছে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি বদলায়নি। সেই অনুভূতিকেই স্মরণ করার দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।





