ছবি সামান্য কাটলেই শনাক্তে ব্যর্থ মেটার এআই প্রযুক্তি

Any Akter
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৫ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করতে নতুন একটি প্রযুক্তি চালু করেছে মেটা। তবে ছবিতে সামান্য সম্পাদনা, বিশেষ করে আকারে ছোট করে কেটে দিলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি আর শনাক্ত করতে পারছে না এই ব্যবস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের পরীক্ষায় মেটার Muse Image প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ৪০টি ছবি বিশ্লেষণ করা হয়। মূল অবস্থায় থাকা সব ছবিই নতুন শনাক্তকারী প্রযুক্তি সফলভাবে শনাক্ত করে। তবে একই ছবিগুলো ক্রপ বা কেটে ছোট করার পর ৫৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি আর সেগুলোকে এআই-তৈরি ছবি হিসেবে শনাক্ত করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: টিকটকের নতুন এআই টুল উন্মোচন

মেটা জানিয়েছে, তাদের Muse Image দিয়ে তৈরি প্রতিটি ছবিতে Content Seal নামে একটি অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন (ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক) সংযুক্ত থাকে। এই চিহ্নের মাধ্যমে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার কথা।

তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে মেটা বলেছে, প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ সম্পাদনা বা ছোটখাটো পরিবর্তনের পরও ডিজিটাল চিহ্নটি থাকার কথা। কিন্তু ছবি বেশি পরিমাণে ক্রপ বা সম্পাদনা করা হলে সেই চিহ্ন নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন কার্যকর

এ ধরনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আগেই স্বীকার করেছে গুগল ও ওপেনএআইও। প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, ছবি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পাদনা বা পরিবর্তন করা হলে তাদের এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তিও সব সময় নির্ভুলভাবে কাজ নাও করতে পারে।

গত মার্চে মেটার একটি স্বাধীন তদারকি বোর্ড (Oversight Board) প্রতিষ্ঠানটিকে ভুয়া এআই-নির্ভর কনটেন্ট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে আরও উন্নত ও শক্তিশালী শনাক্তকারী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুপারিশও করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সিওয়েই লিউ বলেন, অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্নভিত্তিক প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। তবে ছবি কেটে ফেলা, আকার পরিবর্তন, অতিরিক্ত সংকোচন (কমপ্রেশন) বা সম্পাদনার ফলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সারা ব্যারিংটন মনে করেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। শতভাগ নির্ভুল না হলেও এটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়া ছবি শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এআই-তৈরি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে এমন কনটেন্ট শনাক্তে আরও উন্নত, নির্ভুল এবং সম্পাদনা-সহনশীল প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।