৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার শঙ্কা ১০ জেলায়

দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দেশের তিনটি জেলার মোট চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা প্লাবিত হতে পারে। গতকাল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার, মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: দুপুরের মধ্যে ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা, সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভোগাই ও কংস নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ সময়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ ও নাটোর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের তিনটি নদীর চারটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসঙ্গে আগামী একদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, যমুনার ভাঙনে শত শত বাড়িঘর বিলীন

সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার সকাল ৮টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

তবে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৮টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ভেলায় ভাসছে জীবন, পানিবন্দি শত শত পরিবার

এটি কোনো নদীপথ নয়, এটি সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি আবাসিক এলাকা। অথচ টানা বৃষ্টি আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এখানকার মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ভেলা। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা, শিশুদের স্কুলে নেওয়া কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ—সবই করতে হচ্ছে ভেলায় চড়ে। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে শত শত পরিবার।

টানা ১৮ দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও।

সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ইটাগাছা, কামালনগর, বাঁকাল, বারুইপাড়া, পলাশপোল ও মধুমোল্লার ডাঙিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি নামার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইটাগাছা এলাকায় অনেক পরিবার এখন ভেলা ছাড়া চলাচলই করতে পারছে না।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের বাড়ির চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা থেকে শুরু করে সংসারের প্রায় সব কাজই ভেলায় করে করতে হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বরগুনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে বরগুনার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ও গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বরগুনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

সরেজমিনে দেখা যায়, বরইতলা ফেরিঘাটে নদীর জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাটের উভয় পাশের সংযোগ সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে পানি পেরিয়ে যাত্রীদের ফেরি ও খেয়ায় উঠতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি আরও বাড়লে বেড়িবাঁধের বাইরের বসতঘরগুলোও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী, বরইতলা, ডালভাঙ্গা, বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকার এবং পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি এলাকার চরাঞ্চল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচিয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

নদীর পানি যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের বসতঘর পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে এখন হাঁটুপানি। নালিতাবাড়ী উপজেলার বেনিরগোঁফ এলাকার চেল্লাখালী নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবারের বাড়িঘর, উঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা নিজেদের প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী বাজারের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হয়েছে। বাজারের দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী নদীর পানিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢল এলেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কৃষকের ফসল, মৎস্য খামার, গবাদিপশু এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীগুলোর দুই পাড়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে প্রতিবছরের এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সেই উদ্যোগের অভাবে প্রতি বর্ষায় হাজারো মানুষের কষ্ট, পরিশ্রম ও স্বপ্ন পানিতে ভেসে যায়।