শিলাবৃষ্টিতে নেত্রকোনায় পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি

Shakil
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৩ | আপডেট: ৪:২৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলার কয়েকটি এলাকায় রোববার (২ এপ্রিল) বিকেলে ভারি শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় হয়েছে। এতে আগাম জাতের বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়। প্রায় ছয় মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে খালিয়াজুরী সদর, কৃষ্ণপুর ও মেন্দিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার বোরো ফসলের ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন: রাজশাহীর চারঘাটে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ঝড়ে উলুকান্দা হাওরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের শিপন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ওই হাওরে আমার এক একর জমির ধান প্রায় পেকে এসেছিল। চার-পাঁচদিনের মধ্যে কাটা পড়তো। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে ধানের খুব ক্ষতি হয়ে গেছে।’

একই হাওরের কৃষক শফিকুল ইসলাম এবং আম্বর আলীও তাদের জমির উঠতি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যা: প্রধান আসামি নূরাসহ আরও ২ জন গ্রেফতার

খালিয়াজুরী সদরের গৌড়ার হাওর এবং কীর্তনখোলা হাওরেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খালিয়াজুরীর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন এলাকায় ফোন করে খবর নিচ্ছি। তবে কতটুকু ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নই।’

মদন উপজেলার কুলিয়াটি গ্রামের কৃষক আলতু মিয়া ও পলাশ মিয়া বলেন, ‘ব্রি ২৮ ধান চিটা হয়ে গেছে। যা কিছু ধান ছিল তাও শিলাবৃষ্টিতে ঝরে গেছে। বছরের শুরুতে যে অবস্থা ফসল ঘরে তোলার উপায় নেই। সংসার চালানো তো দূরের কথা, সারা বছর ছেলেমেয়ে খাবে কী তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

মদন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম জানান, ‘আমার ইউনিয়নের বাজিতপুর, উচিতপুর, কুলিয়াটিসহ কয়েকটি গ্রামের হাওরে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে। বিশেষ করে বোরো ধান, পাট ও আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় মুশকিল হয়ে পড়বে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার মদন ও গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।