গরুর হাটে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, প্রশ্ন করায় মেজাজ হারালেন ইজারাদার

Abid Rayhan Jaki
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৪ | আপডেট: ২:০৯ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সবার। এর মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জয়পুরহাট জেলা শহরের নতুনহাটে লেগেছে গরুর হাট। হাটে গরু আমদানিও হয়েছে অনেক। দেশি গরুর পাশাপাশি ইন্ডিয়ান বোল্ডার জাতের অনেক গরু উঠেছে। এদিকে গরু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন হাট ইজারাদার। ইন্ডিয়ান গরু, আর অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন হাট ইজারাদার কালীচরণ আগরওয়ালা। কেড়ে নিলেন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন।

শনিবার (৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরের নতুনহাট গরুরহাট ইজারাদারের অফিস কক্ষে এমন ঘটনা ঘটে। ওই হাট ইজারাদার কালীচরণ আগরওয়ালা জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: নবীনগরে তিন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান

সে সময় হাট ইজারাদার কালীচরণ আগরওয়ালা ইন্ডিয়ান গরু প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের এই এলাকায় ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ছোট বাছুরগুলোকে বোল্ডারে রূপান্তর করে বিক্রি করা হয়। এখানে একেকজন খামারি চার-পাঁচ বছর থেকে গরুগুলো লালন-পালন করে বিক্রি করছে। জয়পুরহাটের আশপাশ কোন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গরু ঢোকার কোন ব্যবস্থা নেই। 

পশু বিক্রয়ের ছাড়পত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হচ্ছে জয়পুরহাটের স্থানীয় সাংবাদিক চম্পক কুমারের এমন প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন, গরুর ছাপা ৬’শ টাকা, কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা সাংবাদিকের এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, নিতে পারে। যারা বিক্রি করছে তাদের থেকেও কি নেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, এটি আপনাকে কেন বললো? আর আপনি জানার কে? আপনি সাংবাদিক হলে তো আমাকে এভাবে ধরতে........ আপনি টাকা নিবেন না? লাইভ করেন, আপনি টাকা নেন না? 

আরও পড়ুন: চিতলমারীতে গলাকেটে এক মুদি ব্যবসায়ীকে হত্যা

আমি টাকা নেব না, সাংবাদিকের এমন কথায় তিনি বলেন, কেন নিবেন না? আপনারা টাকা নেন না? আমি নিব না সাংবাদিকের এমন কথায় তিনি বলেন, এটা আমাদের আইন যারা লিখছে তারা ৫০ টাকা করে পাবে। তাহলে ১০০ টাকা করে কেন নেওয়া হচ্ছে? তখন কালীচরণ আগরওয়ালা বলেন, আমাদের খরচ নাই? প্রশাসন টাকা নেয় না.... এই বলে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন তিনি কেড়ে নিয়ে তার পাশে রাখেন। পরে সেখান থেকে মোবাইলটি নেন ওই সাংবাদিক। 

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে এ জেলার ১৪৩১ সনের জন্য উপজেলা ও পৌরসভাধীন হাট-বাজার সমূহের টোল রেইট করে দিয়েছে। সেখানে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও উট প্রতিটির জন্য ৫৫০ টাকা টোল রেইট ধরা হয়েছে।

পশুর হাটের টোল হার সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য নেই সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রাশেদুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা ও পৌরসভা এটি নির্ধারণ করে, সেখান থেকে জেনে নিতে পারবেন। আর প্রশাসন কি উপঢৌকন (টাকা) নেয়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উপঢৌকন নেওয়ার কোন বিধান নেই। এখান থেকে কোন উপঢৌকন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। হাটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি।

অতিরিক্ত পশুর হাটের টোলের হার নির্ধারনের বিষয়টি জানতে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এর মুঠোফোনে ( ০১৭১১-৫৮৬৩২১) এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।