একজন স্বপ্নবাজ তরুণের গল্প

আমাদের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ০৮ নং ওয়ার্ড, আয়নাল মাতুব্বর পাড়ায় ১৫ জুন ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ। ২০০৪ সালে দক্ষিণ দৌলতদিয়া সামজদ্দিন বেপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনের শুরুতে তিনি বেশি মেধাবী ছাত্র ছিলেন না, তবে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর ভর্তি হন গোয়ালন্দ সরকারি নাজিরউদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর্থিক অভাবের কারণে পছন্দের হাইস্কুলে পড়তে পারেননি। পরবর্তীতে ১ বছর পর সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন সাহাজউদ্দিন মন্ডল ইনস্টিটিউট হাই স্কুলে। আর সেখান থেকেই ২০১৫ সালে এসএসসি, ২০১৭ সালে গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০২১ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর থেকে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করেন।
আসলে এই রাজু হাসান জীবনে বহুবার পড়াশোনার জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়েছে। এমনকি গ্রামের মধ্যে বেশি ইংরেজি বলার কারণে অনেক সময় মানুষ তাকে পাগল বলে ডাকত। তবে কখনও সে তার লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়ায়নি। স্বপ্ন শুধু একটি শব্দ, কিন্তু এটি পূরণে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং এর সাথে লেগে থাকা।
আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা
তার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা, কিন্তু সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়। এরপর বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে অনার্স করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর থেকে ইংরেজিতে। তবু স্বপ্ন দেখা বাদ দেয়নি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি চাকরি এবং অন্যান্য কাজে বহুবার ব্যর্থ হয়। বলা চলে, দীর্ঘ ২৭ বছরের মধ্যে অসংখ্যবার বিভিন্ন পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে, তবু কেন যেন স্বপ্ন তাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলে আরও বেশি উদ্যমী ও সাহসী হতে।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন
সে জানত, একজন মানুষ স্বপ্ন দেখলে সে আকাশ ছুঁতে পারে। সত্যিকার্থে কোন ব্যর্থতা বা হতাশা তার বড় স্বপ্ন থেকে সরাতে পারেনি। সে আরও জানত, জীবনে খেলার মাঠে যেকোন জায়গা থেকে গোল দেওয়া যায় যদি এখানে নিজেকে দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা এবং পরিশ্রম দিয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করা যায়। তদ্রূপভাবে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলে নিজেকে দূর্বল ভাবার কোন দরকার নেই।
যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তারা অবশ্যই মেধাবী, তবে চেষ্টা করলে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাতে পারি, তা সে মনে করে।
আজ সে বিশ্বের উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স পড়ছে। এর পেছনে যে ব্যাপক কাজ করেছে সেটা হলো তার স্বপ্ন। এখন সে স্বপ্ন দেখেন একদিন ইংল্যান্ডে, অন্যদিন আমেরিকা, কানাডা, সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন কাজে থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রাকটিক্যাল জ্ঞান অর্জন করবে। এটা তার স্বপ্ন। এমনকি খুব দ্রুত বিশ্ব উন্নত দেশ যুক্তরাজ্য থেকে মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডি করবেন এবং তার গবেষণা থাকবে আইটি দিয়ে কীভাবে শিক্ষা উন্নত করা যায়।