পুলিশের কাজে কোন ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৩ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, অবৈধভাবে কেউ পুলিশের কাজে বাধা দিতে পারবে না এবং বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ডি-এক্টিভেট

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে লটারি পদ্ধতিতে এসপি ও ওসিদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষতা, উপযুক্ততা ও সার্ভিস রেকর্ড বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে পদায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে প্রটোকল না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি শূন্য কনস্টেবল পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দুই মন্ত্রীর পিএস, পাঁচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া কিছু মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর অভিযোগ এসেছে। এসব মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি পুনরায় তদন্তে কমিশন গঠন করে সুপারিশ অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় যাচাই করা হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের অনুমোদনও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন আবেদনে সহায়তাকারীদের তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের চিন্তাভাবনা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে এ উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সফল হলে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।