সিআইডির অভিযানে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের ৩ জন গ্রেফতার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৭ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। 

গ্রেফতারকৃতদের  নাম-  (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), পিতা- মো. আবুল কালাম, সাং- জিলতলী, দাঁতমারা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২), পিতা- ইয়াকুব আলী, সাং- কুরুয়া, পোস্ট- কমর আলী, থানা- মীরসরাই, চট্টগ্রাম এবং  (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮), পিতা- মৃত শামসুদ্দিন, সাং- বাঁশবাড়ী, পোস্ট- সৈয়দপুর, থানা-সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  তাদের গ্রেফতার করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। 

আরও পড়ুন: কান্না থামছে না স্বজনদের, প্রতিবাদে বিক্ষোভ সারাদেশে

অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ০৫টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময়  কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে মর্মে দেখতে পায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এই প্রেক্ষিতে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায়  মামলা নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫ খ্রি.,  ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২০(২)/২১(২)/২৩(২)/২৪(২)/২৭(২)/২৯ রুজু করা হয়।

আরও পড়ুন: ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল

মামলাটির তদন্তে জানা যায়, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।

তদন্তে আরও জানা যায়, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।

তদন্তে আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি’র মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসডি সার্কুলার নং-০৭, তারিখ: ২৮/০৫/২০২৫ খ্রি. অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু অনলাইন গ্যাম্বলিং চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন না করে অপরাধকর্ম পরিচালনা করছিল। পরবর্তীতে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮) কে  পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। 

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।