এনবিআর ভাগ করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, যাচাই-বাছাই শুরু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম পৃথক করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় নতুন করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ পুনরায় যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান প্রশাসন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। বৈঠকে অধ্যাদেশটি পর্যালোচনার পর তা নতুন করে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে হেঁটে বিএনপির কার্যালয়ে তারেক রহমান
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তবে কাঠামোগত কিছু বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির কারণে দীর্ঘ আন্দোলনও হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে না এনে আরও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর ২৬ এপ্রিল মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
আরও পড়ুন: পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সাল থেকে এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আলাদা থাকলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বাড়ে বলে মনে করা হয়।
কার্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি ও বাস্তবায়ন থাকায় স্বার্থের সংঘাত, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় নীতি ও প্রশাসনিক কাজে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে আলাদা কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে গঠিত পরামর্শক কমিটি এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথক করার সুপারিশ করে।
নতুন প্রস্তাবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই বিভাগে বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সুপারিশ রয়েছে।
তবে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রশাসনিক কাঠামো, অ্যালোকেশন অব বিজনেস এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, একই সংস্থার হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।





