করের বিরুদ্ধে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:২০ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর ও অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভে নেমেছেন বাইকাররা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা অভিযোগ করেন, রাজস্ব বাড়ানোর নামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিকভাবে করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে।  শেষে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।  

একই সঙ্গে বাজেটে মোটরসাইকেল, উচ্চ সিসির গাড়ি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং বিভিন্ন সেবাখাতে নতুন কর আরোপের আলোচনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

আরও পড়ুন: হার্ট ফাউন্ডেশন গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছে: চীফ হুইপ

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শনিবার দুপুরে শতাধিক বাইকার এনবিআর ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। অংশগ্রহণকারীরা “বাইক বিলাসপণ্য নয়”, “কর নয়, জনবান্ধব বাজেট চাই” এবং “মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা বন্ধ করো” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশে গণপরিবহন সংকট, কর্মস্থলে যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং রাইড শেয়ারিং নির্ভর জীবিকার কারণে মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসপণ্য নয়; বরং এটি অনেক পরিবারের প্রয়োজনীয় বাহনে পরিণত হয়েছে। অথচ সরকার নতুন অর্থবছরে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, কয়েকদিনজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

বাইকারদের প্রতিনিধি এ কে এম ইমন বলেন, “একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই ক্রেতাকে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, রেজিস্ট্রেশন ফি ও নানা ধরনের কর দিতে হয়। এখন আবার বার্ষিক অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে।”

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভিত্তিক মোটরসাইকেলের ওপর বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হতে পারে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এআইটি আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। 

শুধু মোটরসাইকেল নয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও নতুন কর কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিচালন এলাকা ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এসব যানবাহনের ওপরও বার্ষিক কর বসানো হতে পারে। সরকারের ধারণা, মোটরসাইকেল খাত থেকেই বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।  

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বাজেটে উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি ও অধিক সিসির যানবাহনের ওপর বিদ্যমান কর আরও বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, অনলাইন লেনদেন, কিছু আমদানিনির্ভর পণ্য ও ভোগ্য খাতেও শুল্ক ও কর সমন্বয়ের চিন্তাভাবনা চলছে। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সরকারের জন্য জরুরি হলেও করনীতি এমন হতে হবে যাতে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে না দেয়। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং নগরজীবনের অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে নতুন কর আরোপ জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন শেষে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।