হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৬

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৭ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইমার্জেন্সির দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও জরুরি বিভাগে সরকারি আসবাবপত্র রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত পাঁচজন আনসার সদস্য।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনায় চিকিৎসক নাসির ইসলাম ও আনসার সদস্যসহ মোট সাতজন আহত হন। হামলায় আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ

হামলার ঘটনায় শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহী বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন— সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) ও জায়েদা বেগম (৬০)। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম চড়া

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে স্বজনরা তাকে ঢাকায় না নিয়ে সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাল মিয়া কাজীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপরও হামলা করেন তারা। হামলায় হাসপাতালের এক অফিস সহায়কসহ পাঁচ আনসার সদস্য আহত হন।

আহতরা হলেন— শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাসির ইসলাম (২৯), অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), আনসার সদস্য কামরুল (৩০), আনসার সদস্য আজিজুল হক (২৬) ও মো. কাউসার (২৮)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বজনরা তাকে সেখানে না নিয়ে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যান। পরে মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। আহত চিকিৎসকের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।