লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার তিন আসামি পেলেন বিএনপির শীর্ষ পদ

Any Akter
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১:৪৯ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজনই হত্যা মামলার আসামি।

গত ২৬ আগস্ট ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মো. ফারুক কবিরাজকে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইমাম হোসেন গাজী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আনা হয়েছে আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বরকে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ৭ এপ্রিল বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কর্মী মো. সাইজুদ্দিন দেওয়ান নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন কর্মী জসিম উদ্দিন ব্যাপারী। এ ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা হয়।

সাইজুদ্দিন হত্যার মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নতুন সভাপতি ফারুক কবিরাজকে। একই মামলায় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বরও আসামির তালিকায় রয়েছেন। অপরদিকে জসিম উদ্দিন হত্যার মামলায় সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর নাম রয়েছে আসামি হিসেবে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সমঝোতার মাধ্যমে তিনজনকে শীর্ষ পদে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছালেহ আহাম্মদ বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ভোট গ্রহণের আগে সমঝোতা হওয়ায় নির্বাচন হয়নি। তবে হত্যা মামলার আসামিদের শীর্ষ পদে রাখার সিদ্ধান্ত তিনি দলের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন।

নতুন সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করেছেন, তারা খুনের ঘটনায় জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে।

রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, খুনের মামলা স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই।