৭ দফা দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি
ট্র্যাফিক বিভাগের অনিয়ম বন্ধসহ ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আজ ২৪ নভেম্বর সোমবার দুপুরে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন করার সময় এই হুমকি দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
শহরের কাউতলীতে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে উক্ত মানববন্ধন হয়।
আরও পড়ুন: মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে, টেকনাফ সীমান্তে কী ঘটছে?
পরিবহন নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্র্যাফিক বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ারকে অপসারণ ও ট্র্যাফিক বিভাগের দুর্নীতি বন্ধ, আটক গাড়ি মালিকদের জিম্মায় দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া, পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। শহরে মালবাহী যানবাহন চলাচলের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ এবং বাঁশবাজার এলাকায় ট্রাক লোড–আনলোডের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ, সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। রিকুইজিশনকৃত গাড়ির মালিক–চালকদের সরকারি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
জেলার অভ্যন্তরে চলাচলরত বাস, ট্রাক, ট্যাংকলরি, মাইক্রোবাস এবং সি.এন.জি. অটোরিকশাসহ সব যান্ত্রিক যানবাহনের ১১ সংগঠন নিয়ে গঠিত জেলা সড়ক পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়—
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত
বর্তমানে জ্বালানি, টায়ার, টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ৫ গুণ হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ব্যবসা একটি অলাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। বিগত সময়ের করোনা–সহ ৫ আগস্টের পর পরিবহন ব্যবসা দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এছাড়াও, জেলার আশুগঞ্জ থেকে কুটি পর্যন্ত রাস্তার ফোর লাইনের কাজের ধীরগতি এবং রাস্তার বেহাল দশার জন্য প্রায় ২ বছর ধরে গড়ে মাসে ১০ দিনও গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। এরই মাঝে জেলার ট্র্যাফিক বিভাগ, বিশেষ করে ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ার বিভিন্ন কায়দায় ও অপকৌশল করে বেআইনিভাবে মালিক–শ্রমিকদের নাজেহাল এবং সব প্রকার যান্ত্রিক গাড়িগুলোকে ক্ষতিসাধন করছেন। এছাড়াও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মালিক–শ্রমিকদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে অপমান করছেন।
এমনকি তিনি বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার শত শত সি.এন.জি. এবং চারটি বাস আটক করে রেখেছেন। অনেকবার তার দারস্থ হওয়ার পরও তিনি কোনো সাড়া প্রদান করেননি এবং সন্তোষজনক জবাব দিচ্ছেন না। এরই প্রেক্ষিতে তার স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ এবং যানবাহনের ওপর অযাচিত, বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে আজ পঞ্চাশ–ষাট হাজার মালিক–শ্রমিক ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। এমতাবস্থায় অতিদ্রুত তাকে অপসারণ করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ামত খান, সদস্য সচিব মো. মেরাজ ইসলামসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা। পরে সাত দফা দাবির স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।





