আগে প্রজ্ঞাপন, পরে নির্বাচন—কাশিয়ানীতে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ

Sadek Ali
নেওয়াজ আহমেদ পরশ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:২৭ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না করে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। কর্মসূচি থেকে দাবি জানানো হয়েছে—আগে পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন, পরে নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, কাশিয়ানী উপজেলা শাখার ব্যানারে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা অংশ নেন। 

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি: নৌপরিবহন উপদেষ্টাকে ঘিরে শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়ের চাপ বহন করছেন। অথচ পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এতে কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ‘পে-স্কেল চাই, দিতে হবে’, ‘বৈষম্য মানি না, মানব না’—এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়। 

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ কাশিয়ানী উপজেলা শাখার সমন্বয়ক নোওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক আনিসুজ্জামান তালুকদার। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ সরকারি কর্মচারীরা। অথচ তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই।” সংগঠনের আরেক নেতা মশিউর রহমান বলেন, “আমরা নির্বাচনবিরোধী নই। কিন্তু কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষা করে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মনোযোগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।”

আরও পড়ুন: বরিশাল-১ আসন: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি, সমাজসেবা, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোতে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় অনেক কর্মচারী পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কর্মচারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত বিষয়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করেছি।”

কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।