চাঁদার দাবিতে রূপগঞ্জে কারখানায় হামলা লুট, মামলা করায় মালিককে হত্যার হুমকি

Sanchoy Biswas
খালিদ আহমেদ
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৬ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জি আই তার উৎপাদন কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীরা। শুধু তা-ই নয়, কারখানার কর্মীদের কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আট দিন আগের (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওই ঘটনায় হওয়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এখন কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন অপুকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুরো কারখানা গুঁড়িয়ে ইট খুলে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (গতকাল) বিকালে বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন এই হুমকি দেন বলে অভিযোগ বাদী মনোয়ার হোসেন অপুর।

জানা যায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও ‘বি.এল.ও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মোনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপি নেতা ও মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, ভাইয়ের ছেলে নিশাত আকন, বিএনপিকর্মী মো. সাদিকুল ও ফাহিম। বাদী মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির সহ-সভাপতি বেলায়েত আকন ও নিশাদ আকন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে দফায় দফায় চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি তিনি চার দফায় মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজ এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো চাঁদাবাজদের সঙ্গে মীমাংসার প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন: কাশিয়ানীতে শংকর তহসিলদারের অনুমতিতে চলছে অবৈধ মাটি উত্তোলন ও বিক্রি

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কারখানা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে তারা হামলা চালিয়েছে। এ সময় কারখানার ম্যানেজারসহ কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করে জখম এবং নগদ টাকাসহ অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। মনোয়ার হোসেনের দাবি, মাহফুজুর রহমান নিজে ঘটনার সময় হাজির না হলেও তার নির্দেশেই কারখানায় হামলা ও লুটপাট হয়েছে। হুকুমের আসামি হিসাবে এজাহারে তিনি মাহফুজুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ মাহফুজুরের নাম বাদ না দিলে মামলা নেওয়া হবে না বলে জানায়। পরে মাহফুজুরের নাম বাদ দিয়েই মামলা নেওয়া হয়।

গত রবিবার কারখানাটিতে গিয়ে হামলা ও লুটপাটের চিহ্ন দেখা গেছে। অপরিচিত লোক দেখতেই কর্মরত শ্রমিকরা ভয়ে আতঙ্কে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। এসময় কারখানার সামনে পুলিশ সদস্যদের পাহারা দিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার প্রথম কার্যদিবসেই উন্নয়ন ও নির্বিঘ্নে নাগরিক সেবা দেওয়ার আশ্বাস

কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ জানান, ভেতরে-বাহিরে লুটপাটের চিহ্ন এখনো রয়েছে। হামলার পর দুইদিন কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে কারখানার উৎপাদন চলছে। আগে যেখানে ৪০ জন শ্রমিক রাত দিন কাজ করত, বর্তমানে সেখানে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। হামলাকারীরা এখনো শ্রমিকদের হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছে।

বাদী মনোয়ার হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, ‘গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পাঁচটা চার মিনিটে একটি এয়ারটেল নম্বর থেকে ফোন করে বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা তুলে না নিলে কারখানার প্রতিটি ইট খুলে নেওয়া হবে। শুধু আমাকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে না, আমার বাবাকেও (শরীয়তপুরে বসবাস করেন) ফোনে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে আমাকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ কারণে আতঙ্কে আমার মা-বাবা খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন,হামলাকারীদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যারা হামলা করেছে, তারা আমার এলাকার লোক। কারখানা লুটপাটের কথা শুনে আমার ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন আকন, কাজল আকন ও নিশাত আকনকে ঘটনাস্থলে পাঠাই বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে  কারা লুটপাট করছে তা জানার জন্য। কিন্তু কারখানার মালিক ওই তিনজনকে মামলায় আসামি করেছেন।তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয় লোকজন বেশ কয়েক মাস ধরে কারখানাটি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। এছাড়া কারখানার মালিক কারখানার ভেতরে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছিলেন। এ জন্য এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল।মনোয়ার হোসেনকে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি মনোয়ারকে চিনি না।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি মো.সবজেল হোসেন জানান, কারখানায় হামলা ও মালামাল লুটের ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে কোনো আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। কারখানাটিতে শিল্পপুলিশ মোতায়েন আছে।