দেশের ৩০ উপজেলায় বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত তিন সপ্তাহ ধরে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে এই টিকা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে ৮৮০ পরিবারে মাংস বিতরণ

গত ২০ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৬,৪৭৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণের ‘হটস্পট’ বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ৩০ উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি হামের লক্ষণ থাকা বা আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টায় একযোগে দেশের ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্য সচিব গাজীপুরে উদ্বোধন করেছেন।

টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়া ৩০টি উপজেলা হলোঃ বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, শরীয়তপুরের জাজিরা, যশোর সদর, মাদারীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নাটোর সদর, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ভোলাহাট, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নিয়ে আসতে। তবে যারা জ্বর বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,৪৭৬ জন। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২৬ জন। দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৪২ জন। মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে।