বাউফলে সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে দোকানঘর ও দ্বিতল ভবন নির্মাণ!

Sanchoy Biswas
মশিউর মিলন, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৫ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন এক দখলদার। ৪৩নং জে.এল-এর কালিশুরী মৌজার ১নং খতিয়ানের ১৪২৪নং দাগের এই রাস্তাটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিশুরী বন্দরের মাঝখানে সরকারি টিউবওয়েলের দক্ষিণ পাশ থেকে নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির বড় একটি অংশ প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে রয়েছে। দখলদার মো. কামাল হোসেন নিজের জমি লাগোয়া সরকারি রাস্তার ৫ ফুট জায়গা দখল করে দুইতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবনের নিচতলায় কামালের মালিকানাধীন “লাল মিয়া ছাতার দোকান” এবং দ্বিতীয় তলায় “এনজিও অফিস” ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তায় ঢুকতে হাতের ডানে মো. বাবুল হোসেনের ১৩ ফুট দোকানের ৮ ফুটের অধিক দখলকৃত জায়গায় তিনি দোকান নির্মাণ করেছেন।
রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দখল থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি ২০১২ সালে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় রাস্তা সরু ও দখল হয়ে থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল সংখ্যক দোকানপাট ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও গত ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে ওই রাস্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তখনও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে না পারায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার রাস্তাও এটি।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, কালিশুরী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. কামাল হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব তালুকদারের সহযোগী হিসেবে সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন মোল্লা (ধলু) জানান, বন্দরের এক হাজারের বেশি দোকানঘরের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই রাস্তাটি দখলমুক্ত করা জরুরি। বর্তমানে রাস্তাটি জবরদখল হয়ে থাকায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অবৈধ দখলদার ভবনের মালিক মো. কামাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় সালিশগণ মাপঝোঁক করে আমাকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার কবলাকৃত সম্পত্তিতে আমি ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, ‘ক’ তফসিলভুক্ত আমাদের সম্পত্তি যদি কেউ অবৈধ দখল করে থাকে, তবে আমরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব। জনস্বার্থে সরকারি জায়গা উদ্ধারে কোনো আপস করা হবে না এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।