গাজীপুরে পাঁচ খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:২৯ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়া (৪০)। হত্যাকাণ্ডের পর এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)। নিহত শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। ফোরকানও একই জেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিকুর রহমানের ছেলে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে গত চার মাস ধরে ভাড়ায় থাকতেন ফোরকান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। অন্য চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া ওই কাগজগুলো প্রাথমিকভাবে কোনো মামলার নথি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ি থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

নিহত শারমিনের চাচি ইভা রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে নির্যাতন করতেন ফোরকান। তার ধারণা, মাদকাসক্ত অবস্থায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

স্বজন মনির হোসেন জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্যালক রসুলকে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনে ফোরকান। পরে তাকেসহ পাঁচজনকে হত্যা করে। এমন ভয়াবহ ঘটনা কখনও দেখিনি।”

প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। পরে ফোরকান এক আত্মীয়কে ফোন করে হত্যার কথা জানালে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহগুলো দেখতে পান।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘাতক ফোরকান ফোন করে একজনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

বর্তমানে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো গাজীপুর জেলায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।