কাশিয়ানীতে মাদ্রাসার অনিয়ম তদন্তের জেরে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে ‘ফাঁসানোর’ অভিযোগ

Sanchoy Biswas
নেওয়াজ আহমেদ পরশ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬
ছবি: বাংলাবাজার পত্রিকা
ছবি: বাংলাবাজার পত্রিকা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম কামিল মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করার জেরে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ নাজিমকে ‘ইভটিজিংয়ের’ মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলমান তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম নতুন বাজারে সিরাজ মার্কেটের একটি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

আরও পড়ুন: আসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতি, অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতিতে পুলিশ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুম বিল্লাহ নাজিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাটির শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ ও নৈতিক মান রক্ষায় কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি মাদ্রাসার অভ্যন্তরে কিছু অনিয়ম ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ সামনে এলে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত চলাকালে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, বহিরাগতদের অনৈতিক সহযোগিতা, সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করা ও দরজা ভাঙচুর এবং কিছু শিক্ষকের ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে।

মাসুম বিল্লাহর দাবি, এসব বিষয়ে শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিতেই হঠাৎ করে তাঁর বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের মনগড়া অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ২৪ হাজার কেজি অবৈধ সারসহ ট্রাক আটক

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক আচরণ বা কথোপকথন ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট ছাত্রী আমাদের জানিয়েছে, তাকে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এই মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’

কোনো ঘটনার সঠিক তদন্তের আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করায় তিনি ও তাঁর পরিবার মারাত্মক সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উল্লেখ করে মাসুম বিল্লাহ নাজিম প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য যেন প্রচার না করা হয়, সে বিষয়ে আহ্বান জানিয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালগ্রাম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম উত্থাপিত বিষয়টি বাংলাবাজার পত্রিকাকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি আমাদের সামনে এসেছে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’