মাজারের দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার লাশ উদ্ধার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাতে দিঘির প্রধান ঘাট এলাকা থেকে ফাতেমা নামে ওই শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটার পর মুহূর্তের মধ্যে ঘাট এলাকায় হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হলেও রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কোনো সাফল্য মেলেনি।

আরও পড়ুন: 'বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব': হালিশহরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নাজিমুর রহমান

অবশেষে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে দিঘির ঘাটসংলগ্ন এলাকায় শিশুটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দিঘিতে থাকা কুমিরগুলোর কারণে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে রংপুরে ২ জন গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হামিম বলেন, মাজার এলাকায় এর আগেও কুমির-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকলে দর্শনার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরেক বাসিন্দা জাবের শেখের দাবি, দিঘিতে থাকা কুমিরগুলোর মধ্যে অন্তত একটি অত্যন্ত হিংস্র প্রকৃতির। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে শিশুটির মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয়রা। সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তিনি শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।