সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারের নয়া উদ্যোগ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হিমশীতল পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করেছে। সীমান্তে গোলাগুলির উৎপাত, পুশ-ইন বিবৃতি থেকে ভারত পিছু হটে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করায় সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আবার জোরদার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত যোগদানের প্রায় দুই মাস পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পৃথক পৃথক বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের উপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; ইস্যু না থাকলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের একটাই মূল প্রত্যাশা—তা হলো একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর (উইন-উইন সিচুয়েশন) পরিবেশ তৈরি করবে। হাইকমিশনার আরও বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না—দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তাছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। হাইকমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান। সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্প মোকাবিলায় ভারী সরঞ্জাম মালিকদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতিমূলক সভা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মি. ত্রিবেদী ঢাকায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে এটাই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন যে, তারা আশা করছেন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন আর করার মতো কিছু তারা করবে না। আর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

অন্যদিকে, বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ‘খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে’। তারা এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছেন। সচিবালয়ে এই বৈঠকের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হলো।

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভের পর গত ১২ জুন ঢাকায় এসেছিলেন ভারতীয় রাজনীতিক মি. ত্রিবেদী। এরপর গত ২৫ জুন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ করার ঘোষণা দেন, যা প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। পরে চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম শুরু করে।

কিন্তু এর মধ্যেই আবার দিল্লিতে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে হেনস্তার ঘটনা এবং পরে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে কিছুটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে গত রবিবার বৈঠক করেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন দীনেশ ত্রিবেদী:

সচিবালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে বের হওয়ার পথে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকটিকে ‘জনগণের প্রতিনিধির সাথে জনগণের প্রতিনিধির সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

খুবই ভালো লাগল। আমি কূটনীতিক নই। এটা ছিল জনগণের প্রতিনিধির সাথে জনপ্রতিনিধির সাক্ষাৎ। আমি খুবই আনন্দিত যে ওনার সাথে আমার দেখা হলো। দেখা হওয়ার সাথে সাথে মনে হয়নি যে প্রথমবার আমি ওনার সাথে দেখা করেছি। খুবই ভালো। খুবই বিনয়ী, সাংবাদিকদের বলছিলেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তাদের মধ্যে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছেন (লুকিং ফরোয়ার্ড)।

আমাদের আমন্ত্রণ তো আগে থেকেই আছে (তারেক রহমানের ভারত সফর বিষয়ে)। ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী আর লুকিং ফরোয়ার্ড, অ্যান্ড উই আর পজিটিভ। দুই নেতা সাথে বসলে আলোচনা হলে... ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে। ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি না। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হবে উইন-উইন সিচুয়েশনে, বলেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের যা ইতিহাস আছে, তা তো বদলানো যাবে না। প্রতিবেশী তো বদলানো যাবে না। আমি একটা কথা সবসময় বলি যে আমরা শুধু সীমান্ত শেয়ার করি না, স্বপ্ন শেয়ার করি। মনে হচ্ছে আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুকে সর্ট আউট করতে হবে দুই দিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। খুবই ভালো লেগেছে, ওনার সাথে দেখা হলো।

কিন্তু বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ে আলোচনা হলো কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব তিনি দেননি। ভারতীয় হাইকমিশনার শুধু বলেছেন, এমন কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সমাধান করতে পারি না। এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। দুই দেশে গতিশীল ডেমোক্রেসি। দুই মাস হলো এসেছি। এত সম্মান পেয়েছি, প্রীতি ও ভালোবাসা পাচ্ছি—আমার ভালো লেগেছে।

এরপরেও সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই ভালো হবে, ইতিবাচক হবে।

যা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর:

গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাতের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, তারা আশা করছেন তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করেছেন।

আমরা কোন বিষয়ে বলেছি, প্রেস স্টেটমেন্টও দিয়েছি, সেটি তারা বুঝতে পেরেছেন, বলেছেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, একটা রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী বিভাগ, জুডিশিয়ারি ও আইনসভা। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার জায়গা হলো জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটি যোগ্য আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কাস্টডিতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কোনো বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকে, সেটি আদালতে বলবে।

৫ তারিখে হাসিনা যে কাজ করেছে সেটি হলো বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভ—তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। সে কাজটি ভারত সরকার তাকে করতে দিয়েছে। আমরা চাই আমাদের রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি সারা বিশ্ব শ্রদ্ধাশীল হোক।

আমরা আশা করব এ বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করবেন, বলেছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোমবার হাইকমিশনার তার সাথে কথা বলেছেন এবং তার ধারণা হয়েছে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আমরা আশা করব, আমাদের রাষ্ট্রের কোনো কিছুকে আন্ডারমাইন করবেন না। তাদের সাথে কথা বলে আমি কিছুটা আশ্বস্ত যে এর পুনরাবৃত্তি পাব না, বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে। এ পার্থক্য বুঝতে হবে। এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের দিন যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেটা আমরা দেখব।

আজ (সোমবার) এ বিষয়ে (দ্বিপাক্ষিক সফর) কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেননি।

ভারতীয়রা বাংলাদেশ সরকারের বার্তা বুঝতে পেরেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল উনি (ভারতীয় হাইকমিশনার) স্পষ্ট করেই বলেছেন যে উনি বুঝতে পেরেছেন। উনার সাথে আমার আলোচনা হলো তো, সেখানে তিনি বলেছেন যে আমরা কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলছি সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়, বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দৃশ্যত অবনতি ঘটেছিল। দুই পক্ষেই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত ছাড়াও তখন দুই দেশেরই রাজনীতিবিদদের কারও কারও বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি তখন দুই দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার পর তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকারকে পাঠিয়েছিল ভারত। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

কিন্তু সম্প্রতি ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার অভিযোগ, বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।