বিজিবির অভিযানে জি-থ্রি রাইফেল, ৫১৫ রাউন্ড গুলি ও ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) নাফ নদী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। অভিযানে একটি জি-থ্রি রাইফেল, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাহারপাড়া সীমান্তবর্তী নাফ নদীর শূন্য লাইনের কাছে মিয়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নৌকাযোগে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: বাউফলে অসহায় তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে বিএনপি, মানবিক উদ্যোগে প্রশংসায় এলাকাবাসী
সীমান্তবর্তী ওই এলাকা ইয়াবা পাচারের একটি পরিচিত রুট হওয়ায় বিজিবি টহল দল তাদের বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করে। তবে নির্দেশ অমান্য করে তারা বাংলাদেশের জলসীমার দিকে অগ্রসর হতে থাকলে বিজিবির বিশেষ টহল দল নাফ নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র দলটি গুলি ছোড়ে। পাল্টা পদক্ষেপের মুখে তারা নৌকা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা নৌকাটি জব্দ করে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন: নিকলীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, ড্রেজার জব্দ ও ২ লাখ টাকা জরিমানা
- উদ্ধারকৃত সামগ্রী
- জি-থ্রি রাইফেল – ১টি
- জি-থ্রি খালি ম্যাগাজিন – ৩টি
- খালি ফাইবার ম্যাগাজিন – ৩টি
- গুলি – ৫১৫ রাউন্ড
- সিম্ফনি বাটন মোবাইল – ১টি
- এয়ারটেল সিম – ২টি
- ইয়াবা – ৪,০০০ পিস
- জি-থ্রি পাউচ – ১টি
- লুঙ্গি – ২টি
- কলার গেঞ্জি – ১টি
- ১০ টাকার নোট – ২টি (মোট ২০ টাকা)
- Marise সিগারেট – ১২ প্যাকেট
বিজিবি আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ মে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় দুই জেলের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়া যে সশস্ত্র দলটি সক্রিয় ছিল, পালংখালীর সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সেই একই দল জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির জনবল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ জনগণ ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।





